শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২০:২১, অক্টোবর ০৮ ২০২৬ মিনিট
দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদারের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) পৃথক চিঠিতে তাদের পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ্যে আসে।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দুজনের নিজ নিজ সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে এক মা ও শিশুকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনার পর তার বিরুদ্ধে পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ভিন্ন। আদালতে বিচারাধীন এবং নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা বিএনপি।
নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা বিএনপি বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক আচরণ ও দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে জারি করা ওই নোটিশে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, সাক্ষী ও অন্যান্য প্রমাণসহ দলীয় কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে অনুপস্থিতিতেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছিল।
কারণ দর্শানোর সেই প্রক্রিয়ার পরই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে দুজনের পদ স্থগিত করা হলো। জেলা বিএনপির চিঠি অনুযায়ী, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
মো. মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, আদালতে চলমান মামলার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলা বিএনপির দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।