স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার বাসায় মাদকের আসর, পুলিশ-নারীসহ আটক ৪

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:১৭, অক্টোবর ০৮ ২০২৬ মিনিট

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামের বাসায় মাদকের আসরে হানা দেয় ডিএনসির কর্মীরা। বৃহস্পতিবার শেষ রাতে স্থানীয় পাঁচগাও গ্রামে মিরাজের টিনশেড বাসাটিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা চতুর দিক থেকে ঘিরে রাখে। এবং বাসাটিতে অবস্থানরত সকলকে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ডিএনসি কর্মীদের আহ্বানে কেউ সাড়া না দিয়ে সকলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। সকাল নাগাদ সেখান থেকে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশের উপ-সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন (৩৮) এবং জনৈক নারীসহ অন্তত ৪ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিরাজুল ইসলামের দলীয় কোনো পদপদবি না থাকলেও তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিকদলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় নানান ধরনের অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মাদক সরবরাহ করতেন। কথিত এই নেতার সাথে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেনের গভীর যোগাযোগ ছিল এবং তিনি প্রায় দিনই মিরাজের বাসায় রাত কাটাতেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করার বহু অভিযোগ আছে। ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাচগাঁও গ্রামের ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০) নামের নারীসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে মাদকের বড় কোনো চালান না পাওয়া গেলেও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতে পাচগাঁও গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজের বাসাটিকে ঘিরে রাখেন এবং ভেতরের সকলকে আত্মসমর্পণে আহ্বান রাখেন। তখন তারা ডিএনসির কর্মীদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে যে যার মতো পালানোর চেষ্টা করেন। সূর্যের আলো ফুটতেই পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফিয়ে কাঁদামাটিতে পড়েন। তখন তাকে মাদকদ্রব্যের কর্মীরা ধরতে গেলে উভয়ের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেসহ ৪জনকে আটকে সফলতা পায় এবং পরক্ষণে তাদের নিয়ে আসে ডিএনসি। সূত্রে জানা গেছে, আটক ৪ জনের মধ্যে এসআই দেলোয়ার হোসেনকে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এবং কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি নেয়। ডিএনসির এমন দ্বিমুখী আচারণ কেনো জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) তানভির হোসেন খান বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক নিজে এসে ছিলেন এবং তিনি পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’