মাইক্রোবাসে তুলে যুবককে নির্যাতন, চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:২৮, অক্টোবর ০৭ ২০২৬ মিনিট

ভোলার বোরহানউদ্দিনে রাজিব (২৮) নামে এক যুবককে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর দুই চোখ উপড়ে ফেলা এবং হাত-পা বেঁধে ডোবার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে। রাজিব বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

রাজিবের ভাই মো. রিয়াজের অভিযোগ, সোমবার রাত ১১টার দিকে বাড়ির সামনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন রাজিব। এ সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে সেখানে থামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয়।

রিয়াজের দাবি, রাজিবকে বদরপুর ও লালমোহন এলাকার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে ঘোরানোর সময় মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলে হাত-পা বেঁধে ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কাছে একটি ডোবার পাশে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।

তিনি বলেন, রাজিবের শরীর ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। রাজিব কয়েকজনকে শনাক্ত করে তাদের নামও জানিয়েছেন। পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা রাজিবের ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত রাজিবকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ আলী বলেন, রাতের দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।