বরিশালে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এলপিজির তীব্র সংকট
বিআরটিএ এবং স্থানীয় সিএনজি মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রায় ১৩ হাজার গ্যাসচালিত যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজারের বেশি সিএনজি ও অটোরিকশা। নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় এসব যানবাহনে শ্রমিকদের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে গ্যাস সংকটে রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে। এই সংকট দ্রুত নিরসন করা না গেলে আগামী দিনগুলোতে নগর পরিবহনে আরও বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা যানবাহন মালিক ও চালকদের।নগরীর সাগরদী মেসার্স ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ ইনচার্জ মো. সোহাগ বলেন, ‘গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। প্রতিদিন ২০ হাজার লিটার গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ১০-১২ হাজার লিটার। এ কারণে প্রয়োজন মতো গ্যাস দিতে পারছি না। তবে কী কারণে এমন সংকট দেখা দিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’
রূপাতলী লিলি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. রিপন সিকদার বলেন, ‘আমরাও গ্যাস সংকটে ভুগছি। সিএনজি চালকদের পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে পারছি না। তাই গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি।’ গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়া সিএনজি চালক নাসিমুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস পাইনি। সাগরদী এলাকার ডোস্ট পাম্পে ২ ঘণ্টা সিরিয়ালে বসে থেকে গ্যাস পেয়েছি। কিন্তু ৩০০ টাকার বেশি গ্যাস দেয়নি।’ একই অভিযোগ করেন আরেক সিএনজি চালক মিলন হোসেন বলেন, ‘৩-৪ দিন ধরেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাচ্ছি না। দু-একটিতে পাওয়া গেলেও সময়মতো না গেলে তাতেও গ্যাস পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা চললে গাড়ি চালানো মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ এদিকে নগরীতে এলপিজি সিলিন্ডারেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ খুচরা দোকানে মিলছে না ১২ কেজির সিলিন্ডার। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকার বেশি। এলপিজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ করতে পারছে না। এর সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধিতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।’ গ্রাহকদের অভিযোগ, সিলিন্ডার প্রতি সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি হাঁকানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে ১৮৫০ থেকে ২০০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ডিলারদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সান গ্যাস ১ হাজার ৭০০ টাকা, আই গ্যাস ১ হাজার ৭২০ টাকা, ইউনিক ২ হাজার টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৮০০ টাকা, যমুনা ১ হাজার ৭৫০ টাকা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি বিক্রি করছে। সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার জুয়েল বলেন, ‘২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে ৫৫ টাকা বেড়েছে। আগে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও এখন ১ হাজার ৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো গ্যাস দিতে পারছি না।’ বরিশাল পলিটেকনিক এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ ফারজানা ববি বলেন, ‘রান্নার জন্য সিলিন্ডার ছাড়া অন্য কোনো উপায় না থাকায় দাম বাড়তি হলেও কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে কবে শান্তি পাব তা বুঝে উঠতে পারছি না।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের তদারকির দাবি জানান তিনি। এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে এলপিজি বিক্রির সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত বাজার তদারকি চালানো হবে।’