আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় বৃদ্ধকে পেটালেন আ.লীগ নেতা, থানায় অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩৮, অক্টোবর ০৪ ২০২৬ মিনিট

পিরোজপুরের নেছারাবাদে জমিসংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ায় মো. আনসার আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে রাস্তায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নেছারাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আনসার আলী। তিনি জানান, শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতার নাম- আবুল বাশার। তিনি বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

আহত আনসার আলীর অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবুল বাশার তাকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। তবে তিনি আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দেন। এর জের ধরে শুক্রবার দুপুরে কাটাখালী বাজারের কাছে রাস্তায় তাকে দেখে আবুল বাশার ও তার মেয়ের জামাই আশিক মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্রও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে আহত আনসার আলী নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কাটাখালী গ্রামের ওসমান গনির সঙ্গে জমি নিয়ে আবুল বাশারের বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় করা মামলায় আনসার আলীকে সাক্ষী করেন ওসমান গনি। মামলাটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনসার আলী বলেন, ‘ওসমান গনি ও আবুল বাশারের মধ্যে জমি নিয়ে মামলা চলছে। ওই মামলায় সাক্ষী হওয়ার কারণেই কাটাখালী গ্রামের আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাশার ও তার মেয়ে জামাই আমাকে মেরেছেন।’

মামলার বাদী ওসমান গনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কাছ থেকে আবুল বাশার গোপনে একটি জমির দলিল করে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমি পিরোজপুর আদালতে টাকা দাখিল করি। ওই মামলার সাক্ষী আনসার আলী। বাশার তাকে সাক্ষ্য না দিতে নিষেধ ও ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। তিনি সাক্ষ্য দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছে।’ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওসমান গনি ও আবুল বাশারের জমি সংক্রান্ত মামলার জেরেই আনসার আলীকে মারধর করা হয়েছে। জনসমক্ষে এ ধরনের মারধর করা ঠিক হয়নি। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল বাশার বলেন, ‘শুক্রবার বাজারে বসে থাকার সময় আনসার পেছন থেকে এসে আমাকে ধাক্কা দেন। এ নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে একটু হাতাহাতি হয়েছে। নেছারাবাদ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।