তদবির না শোনায় পটুয়াখালীর ডিসিকে বদলি? নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৪১, অক্টোবর ০১ ২০২৬ মিনিট

পছন্দসই প্রার্থীকে পিয়ন পদে চাকরি দিতে তদবির করেছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সেই তদবির উপেক্ষা করে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার বিসিএস ২৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পটুয়াখালী থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তবে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল বলে দাবি করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে নিয়োগ দিতে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জহিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ডিসি। জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় ১০টি অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ২৫ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় জহিরুল ইসলাম সর্বোচ্চ নম্বর পান। পরদিন মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ডের প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় সন্দেহ হয়। তার লিখিত পরীক্ষার খাতা ও হাতের লেখা যাচাই করে ভিন্নতা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে জহিরুল স্বীকার করেন, তার পরিবর্তে সাখাওয়াত নামে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুলকে চাকরি দিতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তদবির করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসি ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন নুরুল হক নুর। পরে তিনি ডিসির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী নুর। তিনি বলেন, ডিসির আচরণগত সমস্যার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয়। নুর বলেন, তিনি পটুয়াখালী গেলে ডিসি তার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন না। এমনকি সরকারি সফরের সময় একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে ডিসি কুয়াকাটায় চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ডিসির পদোন্নতি হয়েছে এবং তার বদলি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তার জানা নেই। ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণায় অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক। আর ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে কোনো কর্মকর্তাকে যদি শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হবে।