বরিশালে বাবাকে হত্যার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসাতে নিজের বাবাকে হত্যার দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার বরিশালের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানান।
দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দসাহ গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মামলার বরাতে বলেন, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এক বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন পলাশ। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তুলতে গেলে তার বাবা আলী আকবর বাধা দেন এবং প্রথম স্ত্রীকে মর্যাদা দিয়ে ঘরে তোলার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় পলাশের।
পরবর্তীকালে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে পলাশের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রথম স্ত্রী। সেই মামলায় ১৭ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন পলাশ। কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথম স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়াবহ পরিকল্পনা করেন তিনি।
মামলায় বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২ মে রাতে পলাশ তার সহযোগীদের নিয়ে বাবাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে মুখ ও হাত-পা বাঁধা এবং মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় আলী আকবরকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত আলী আকবরের বড় ছেলে শহীদ হাওলাদার বাদী হয়ে ছোট ভাই পলাশকে প্রধান আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীকালে পুলিশ পলাশকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১১ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শেষে পলাশসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন উজিরপুর থানার তৎকালীন ওসি সুকুমার রায়।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা বলেন, মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পলাশকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।
অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
