বিসিসির নির্দেশনা অমান্য করে নগরীতে চলছে বালু আনলোড ও জলাশয় ভরাট
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর ১৮টি বালু আনলোড পয়েন্টের কার্যক্রম বন্ধ করার কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এখনো বালু আনলোড ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এসব পয়েন্টের পাইপলাইন ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ও পুকুর ভরাটের কাজও চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এক নোটিশের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন বালু আনলোড পয়েন্ট বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে নগরজুড়ে ব্যবহৃত বালু সরবরাহের পাইপলাইন দ্রুত খুলে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে (২৯সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি বালু আনলোড পয়েন্টে এখনো কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইনও অপসারণ করা হয়নি। এসব পাইপের মাধ্যমে বালু ফেলে নগরীর পুকুর, জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এবং নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইজারাদারদের কাছে ড্রেজার ভাড়া দেওয়া কয়েকজন মালিকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, “আমরা ইজারাদারদের কাছে ড্রেজার ভাড়া দিয়েছি। তারা চালাতে বললে আমরা কী করব?”
তবে নগরবাসীর অভিযোগ, যদি সিটি কর্পোরেশনের নোটিশ অনুযায়ী বালু আনলোড পয়েন্ট বন্ধ এবং পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় একদিকে প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রশ্নের মুখে পড়বে, অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর-জলাশয় ভরাটের কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
