ভোলা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় হত্যা অভিযোগে
ভোলার চরফ্যাশনে বশার পণ্ডিত (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গলা ও পেট কেটে হত্যার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে পূর্ববিরোধ এবং একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার দুজন হলেন চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সালমা আক্তার ও তার স্বামী সাহিদুর রহমান ।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের চরফ্যাশন আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, রোববার দুপুরে নজরুলনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সালমা আক্তারের বাড়ির সামনের একটি ডোবা থেকে বশার পণ্ডিতের গলা ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে বশার পণ্ডিতের সঙ্গে সালমা আক্তার ও তার স্বামীর আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এর পাশাপাশি জুয়েল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সালমা আক্তার একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় বশার পণ্ডিতকে সাক্ষী করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, ওই মামলায় বশার মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় সালমা আক্তার ও তার স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ আরও বাড়ে। পরে পূর্বের ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে বশারকে হত্যা করে মরদেহ ডোবায় ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় বশার পণ্ডিতের বাবা আবুল কাশেম দক্ষিণ আইচা থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় সালমা আক্তার ও সাহিদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, বশার পণ্ডিতের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সালমা আক্তারকে মারধর করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে তার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ওসি আহসান কবিরসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হন।
