ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিয়ে করতে বাদিনীর হট্টগোল বিচারককে হুমকি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩৬, সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২৬ মিনিট

ধর্ষণ মামলায় বিচারাধীন আসামিকে শাস্তি না দিয়ে স্বামী হিসেবে পেতে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। এ সময় তিনি আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা না করলে বিষপানে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবীরা।

 মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক তাকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া সম্ভব হলেও আদালত কাউকে বিয়েতে বাধ্য করতে পারে না।

বাদী তখন আসামির সাজা না চেয়ে তাকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবি জানান। বিচারককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আসামির সাজা হলে তাকেও ফাঁসি দিতে হবে। বিয়ের ব্যবস্থা না করলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দেন তিনি।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নম্বর ১২৫/২৩-এর যুক্তিতর্ক শুনানির দিন বাদী আদালতে হট্টগোল করেন। তিনি লিখিত আবেদন দিয়েও আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পিপির দাবি, আদালতের বাইরে তার ব্যক্তিগত চেম্বারেও বাদী তাকে হুমকি দিয়েছেন।

মামলার আসামি রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই মো. আল-আমিন মোল্লা। বাদীর অভিযোগ, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন আল-আমিন। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি মামলা করেন।

পিপি জানান, ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় বাদী, তার নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, যুক্তিতর্ক চলাকালে বাদী তার ওপরও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং শুনানিতে বাধা সৃষ্টি করেন। তার ভাষ্য, বাদী বিচারকের কাছেও আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানান এবং তা না হলে রায়ের দিন আত্মহত্যার হুমকি দেন।

মামলার বাদী রুনু আক্তার বলেন, “আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যেকোনোভাবে আল-আমিনকে চাই।”