বরিশালে খাস জমিতে গাছ কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ডিসিও ইউএনওর
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জে সরকারি খাস জমিতে গাছ কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ মালেক তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মোঃ বারেক তালুকদার বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের গোয়ালদী মুশুরীয়া এলাকায় মোঃ বারেক তালুকদারের একটি লিজকৃত জমি রয়েছে জে. এল. নং ৫৩, খতিয়ান নং ৩৮২ সেখানে তিনি ২০ বছর যাবত বসবাস করেন। ওই জমির পাশে থাকা একটি জায়গাকে সরকারি খাস জমি দাবি করে সেখানে তিনি পরিবেশের জন্য বিভিন্ন গাছ লাগিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর ছোট ভাই মোঃ মালেক তালুকদার ওই জায়গায় থাকা গাছগুলো কেটে নিয়ে যান এবং জায়গাটি দখল করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, গাছ কাটা ও ঘর নির্মাণে বাধা দিতে গেলে তাঁকে দেশীয় অস্ত্রসহ ভয়ভীতি দেখানো হয় যার ভিডিও তার কাছে সংরক্ষিত ছিল। ১ই সেপ্টেম্বর এ ঘটনার বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ঘটনাস্থল তদন্তে যায় থানা পুলিশ।
পরবর্তীতে ঘটনার ২০ দিন পর, কোন প্রতিকার না পেয়ে এ ঘটনায়, চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে অভিযোগে জায়গাটিকে সরকারি খাস জমি বলা হলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড ও সরেজমিন তদন্ত ছাড়া জমিটির প্রকৃত শ্রেণি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার, আসমা উল হুসনা এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ট্রেইনিং এ আছি ঢাকায়। অভিযোগটি এখনো তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে সরকারি উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে আসব। সরকারি অনুমতি ছাড়া কেউ সেখানে বসতবাড়ি বা স্থাপনা করতে পারবে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ মালেক তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তবে বারেক ও মালিকের ফুফাতো ভাই মোস্তফা জানান, মুশুরিয়া ও চন্দ্রপাড়া মৌজার জমি পাশাপাশি , মুশুরিয়া মৌজায় বারেকের জমি রয়েছে, চন্দ্রপাড়ার মৌজায় অর্থাৎ যেখানে মালেক তারা ঘর নির্মাণ করেছেন সেই জমিটি মোস্তফার ভগ্নিপতি বাবুল হাওলাদারের যার এসএ ১৫৬/বিএস ১৫৮।
মোস্তফা আরো জান, মালের তালুকদারকে তার ভগ্নিপতি বাবুল হাওলাদারের এই সম্পত্তিতে থাকতে দিয়েছেন। তবে যেখানে ঘর নির্মাণ করছে মালেক তালুকদার সেটির পূর্ব দিক থেকে কিছু অংশ সরকারি খাস জমিতে পড়েছে। তিনি আরো বলেন বারেক তালুকদারের মুশুরিয়া মৌজায় জমি থাকতেও তিনি চন্দ্রপাড়া মৌজায় এসে ভোগ দখল করা শুরু করেছেন।
বারের তালুকদারের স্ত্রী জানান, ওই ঘরে কোন পুরুষ লোক ছিলো না সেই দিন শুধু তিনি এবং তার পুত্রবধূ ছিলেন, সেই সুযোগে মালেক ও লোকজন মিলে সরকারি জমিতে রোপন করা তাদের বড় বড় মেহগনি ও বনলজ গাছগুলো কেটে নিয়ে যায়। অতঃপর বারেক তালুকদার বাড়িতে আসলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলে মালেক তাদের প্রাণ নাশের হুমকি ও ভয়ভিত্তি দেখায়।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকার জানান, অভিযোগের সত্যতা, জমিটির প্রকৃত শ্রেণি এবং সেখানে ঘর নির্মাণের বৈধতা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হওয়া যাবে যাচাই বাছাইয়ের জন্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
