বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের রেকর্ড কিপার জুয়েলের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৩৭, সেপ্টেম্বর ২৭ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বিরুদ্ধে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে সেবা পেতে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফি বা বৈধ খরচের বাইরে রেকর্ড কিপার জুয়েল খান অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কাজ বিলম্বিত বা জটিল করে দেওয়ার আশঙ্কা দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমির নকশা, পর্চা, দাগের সূচি, কেসের নকল এবং পর্চায় ভুল সংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদনসহ বিভিন্ন নথি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে রেকর্ড কিপারের দায়িত্ব রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব সেবা নিতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে সরকারি ফি’র তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নকশার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা হলেও জুয়েল খান ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। একইভাবে প্রতিটি পর্চার জন্য ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দাগের সূচির জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং কেসের নকলের জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পর্চায় ভুল সংশোধন সংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদন গ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিকদের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার অর্থের লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি। টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং কাজ পেতে ভোগান্তি বাড়ে।”

তাদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যাতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নামে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জোনাল সেটেলমেন্ট বরিশাল জোন (যুগ্মসচিব) মৃধা মো: মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।