বরিশালে সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:২৯, সেপ্টেম্বর ২২ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামী আব্দুল হাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সন্তানদের ভরণ-পোষণ না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌসী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হাদী জানিয়েছেন, তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের মাধ্যমেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন জান্নাতুল ফেরদৌসী।

লিখিত বক্তব্যে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই আব্দুল হাদীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আয়শা (৬) ও আয়ান (২ বছর ৮ মাস) নামে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংসারের বিভিন্ন খরচ ও স্বামীর ঋণ পরিশোধের জন্য তার মা ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌসীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি তাকে বাবার বাড়িতে রেখে স্বামী চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। আদালতে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে স্বামী আর ফিরে আসেননি বলে অভিযোগ তার। সন্তানদের দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আর্থিক সহায়তা বা খোঁজখবর নেওয়া হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জান্নাতুল ফেরদৌসী আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর সঙ্গে খাদিজা নামে এক নারীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল ফেরদৌসী তার দুই সন্তানসহ নিজের নিরাপত্তা, ভরণ-পোষণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাদী বলেন, “দুই বছর পূর্বেই আমাদের তালাক হয়ে গেছে। এখন আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হবে।