জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন চাপ তৈরি করবে : সাকিব

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৫৭, সেপ্টেম্বর ২২ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিব। তিনি অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক ব্যক্তিগত বিবৃতিতে রাইদুল ইসলাম সাকিব বলেন, “এক লিটার জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০ টাকা বাড়ানো সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে। জ্বালানি তেল কোনো বিচ্ছিন্ন পণ্য নয়; এর সঙ্গে মানুষের যাতায়াত, কৃষি, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সরাসরি সম্পর্কিত।”

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

রাইদুল ইসলাম সাকিব বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি কিংবা জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয়ের বাস্তবতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই চাপের পুরোটা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো জনবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না। বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।”

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ব্যয়, কৃষির উৎপাদন ব্যয় এবং পণ্য সরবরাহের খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়বে। ইতোমধ্যে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের অভিঘাতের দায় সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। জনগণের জীবনযাত্রার সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।”

রাইদুল ইসলাম সাকিব জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য পুনর্বিবেচনা, গণপরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।