বরিশালে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, শিক্ষক-ইমামকে গণপিটুনি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৫৮, সেপ্টেম্বর ২১ ২০২৬ মিনিট

বরিশালের মুলাদীতে ছয় বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হেলাল উদ্দীন (২১) নামে ওই শিক্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। পরে মাদ্রাসা ও মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হেলাল উদ্দীন পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলার চাদলী গ্রামের ফারুক হোসেন হাওলাদারের ছেলে। তিনি মুলাদীর একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি রাঘুয়া শরীফ বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ছয় বছরের ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে হেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে এশার নামাজ শেষে স্থানীয় কয়েকজন হেলাল উদ্দীনকে রাঘুয়া শরীফ বাড়ি জামে মসজিদ থেকে আটক করেন। পরে তাকে খালাশিরচর বাংলাবাজার এলাকার একটি মসজিদের দোতলায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা সেখানে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে মাদ্রাসা ও মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির শর্তে মুচলেকা নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মাদ্রাসার প্রধান মোহতামিম মাওলানা ইউসুফ আলী বলেন, অভিযোগ ওঠার পর রোববার রাতেই হেলাল উদ্দীনকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রাঘুয়া শরীফ বাড়ি জামে মসজিদের মুসল্লি আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, শিশুর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে এশার নামাজের পর কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ কিংবা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।