চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে দুই শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ
মিমির দাবি, ওই নারী তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি স্প্রে বের করে তার মুখে ছিটিয়ে দেন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর এক পুরুষের কাছে নিয়ে যান এবং একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। পরে অটোরিকশায় করে মিমি ও আয়ানকে মিয়ারহাট বন্দরের মাছ বাজার এলাকায় নেওয়া হয় বলে পরিবারের কাছে জানিয়েছে শিশুটি।
মিমি জানায়, সেখানে যাওয়ার পর তার চেতনা ফিরে আসে। এ সময় ওই ব্যক্তি তাকে ও তার কোলে থাকা শিশুটিকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখান। পরে ওই ব্যক্তি কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগে মিমি কৌশলে আয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে সে তার খালার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।মিমির মা মরিয়ম বেগম জানান, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার বোন মোবাইল ফোনে কল করে মিমির অবস্থান জানতে চান। এরপর তিনি মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার বোন মোবাইল ফোনে জানান, মিমি তার বাড়িতে এসেছে এবং তাকে কেউ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে।
বলদিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ এনামুল হক রতন বলেন, ‘স্প্রে ছিটিয়ে অচেতন করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে শিশুটি জানিয়েছে। পরে চেতনা ফিরে এলে সে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে দুই শিশুকেই পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সত্যিই যদি এ ধরনের কোনো চক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।’ নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। গুরুত্ব সহকারে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।’