পিরোজপুরে ৫৩৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৫৭, সেপ্টেম্বর ১৯ ২০২৬ মিনিট

পিরোজপুরে ৯৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় বাড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ; কোথাও কোথাও ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদানও। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯৮৯টি। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও সমানসংখ্যক। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫০ জন প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৫১ জন। তাঁদের পাঠদানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে কর্মরত আছেন ৫ হাজার ১৮৪ জন। প্রধানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন সহকারীরা প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও রয়েছে। ৬৩ নম্বর বাশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালমা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষা অফিসে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হয়। ৯১ নম্বর মধ্য পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা মমতাজ বলেন, প্রতিদিন তাঁকে তিন থেকে চারটি ক্লাস নিতে হয়। এর পাশাপাশি পালন করতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব। একজন সহকারী শিক্ষক চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় তাঁর ক্লাসও নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৯০ নম্বর মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকিকুন্নেছা জানান, ২০২৪ সাল থেকে তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। ২৪৫ জন নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৪৫ জন শিক্ষক সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআই রিপোর্টের কার্যক্রম চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।