আধুনিক রূপ পেলেও সেবার মান বাড়েনি বরিশাল বিমানবন্দরে, যাত্রীদের ভোগান্তি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : সপ্তাহে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রবিবার- এই তিন দিন ফ্লাইট থাকায় অন্য দিনগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে যাতায়াতকারীদের সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের দাবি, বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোকে এই রুটে ফিরিয়ে এনে প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া ও যাত্রীবান্ধব সময়সূচি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বাড়ানোর আগ্রহ কম। বর্তমানে ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজে প্রতি ফ্লাইটে গড়ে ২০ থেকে ২২ জন যাত্রী থাকছেন।

ফলে পরিচালন ব্যয় তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যাত্রী কম থাকায় ভাড়াও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামানো সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা-বরিশাল রুটে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একসময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ারসহ একাধিক সংস্থা এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত। পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় আকাশপথে যাত্রী কমতে থাকে।

পরে যাত্রী সংকটের কারণে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো এ রুট থেকে সরে যায় বা ফ্লাইট কমিয়ে দেয়।

তবে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মতে, চিকিৎসা, ব্যবসা, চাকরি ও জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে আকাশপথের গুরুত্ব রয়েছে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী মো. আতিকুর রহমান বলেন, “ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় নিয়মিত যেতে হয়। কিন্তু ফ্লাইটের সংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় আকাশপথে যাতায়াতের সুযোগ পাওয়া যায় না। ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি সময়সূচি ও ভাড়া যাত্রীবান্ধব করা হলে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপকৃত হবেন।”

বরিশাল বিমানবন্দর বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে অবস্থিত। সিএএবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-৯১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য এটি চালু হয়। বর্তমানে রানওয়ে ৬ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১০০ ফুট প্রশস্ত। রানওয়ে ৮ হাজার ৫০০ ফুটে সম্প্রসারণ, এজিএল, আইএলএস, ডিভিওআর, ডিএমই ও পিএপিআই লাইট স্থাপন, কনভেয়ার বেল্ট ও এপ্রোন সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় জানান, বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের সুপারভাইজার মনমতো সরকার জানান, সীমানাপ্রাচীরের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে ফাঁকা রয়েছে, যেখান দিয়ে বাইরে থেকে সহজে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া উড়োজাহাজ অবতরণের সময় রানওয়ের অবস্থান ও গ্লাইডপাথ নির্দেশনায় ব্যবহৃত পিএপিআই লাইটের কিছু অংশ নষ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।

বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, “বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বরিশাল বিমানবন্দরকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপ দেওয়ার বিষয়েও আমরা কাজ করব।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট নিশ্চিত করা গেলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর আকাশপথের যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে।