রোগীর চেয়ে স্বজন বেশি অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের অসচেতনতায় নোংরা হচ্ছে শেবাচিম
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বিরুদ্ধে আগত সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগের যেন অন্ত নেই। তবে কাঙ্ক্ষিত সেই সেবা পেতে সংশ্লিষ্টদের কতটুকু সহযোগিতা করেন আগত রোগী ও তাদের স্বজনরা। এবার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য।
এমনিতেই রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোগী ও স্বজনদের অসচেতনতা এবং দ্বায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর ভিড়, যত্রতত্র পানের পিক ও থুথু ফেলা, বাথরুমে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে রাখা এবং টয়লেট ব্যবহারের পর পানি না দেওয়ার মতো ঘটনায় নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ। শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগে প্রবেশের চেষ্টায় নিরাপত্তা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক রোগীর সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক স্বজন ও দর্শনার্থী অবস্থান করছেন। ফলে ওয়ার্ডে বাড়ছে ভিড়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামে যেমন ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে দেয়াল, সিঁড়ি ও বিভিন্ন কোণায় পানের পিক ও থুথুর দাগ দেখা যায়। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনাও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে পরিচ্ছন্নতা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু মানুষের দায়িত্বহীন আচরণে সেই পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
বাথরুম ব্যবহার নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। কয়েকটি বাথরুমে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে রাখার পাশাপাশি টয়লেট ব্যবহারের পর পানি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। এতে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করলেও মানুষের অসচেতনতার কারণে অনেক সময় তা দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা জানান, রোগীর স্বজন কিংবা দর্শনার্থীদের কেউ কেউ আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন কক্ষ এবং নবজাতকদের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র (স্ক্যানু) এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেন। এসব এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ চিকিৎসাসেবা, রোগীর নিরাপত্তা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
হাসপাতালের একাধিক রোগীর স্বজন বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভিড় ও ময়লা কিছুটা বাড়তেই পারে। তবে যেখানে-সেখানে পানের পিক বা থুথু ফেলা, বাথরুম নোংরা করা কিংবা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ডা. রেজা বলেন, শেবাচিমে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের সঙ্গে স্বজন ও দর্শনার্থীর সংখ্যাও অনেক। পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। হাসপাতালকে শুধু কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব মনে করলে হবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত রাখতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে দর্শনার্থী প্রবেশের ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চিকিৎসার জন্য আসা হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের সঙ্গে রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।
