শত অভিযোগের পরেও অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছে শেবাচিম

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩৩, সেপ্টেম্বর ০৭ ২০২৬ মিনিট

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের যেন শেষ নেই। চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া, বুয়া থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স চালক বিভিন্ন পর্যায়ের সেবাদানকারীদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযোগ ওঠে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে হামলার ঘটনাও ঘটে থাকে। পাশাপাশি রোগী বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়েও দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের দাবি হাসপাতালের সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেশি। প্রায় ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। তাদের সঙ্গে আসেন আরও প্রায় ৩ হাজার দর্শনার্থী ও স্বজন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষের যাতায়াত ঘটে হাসপাতালটিতে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকট, চিকিৎসক সংকট এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব। সীমিত জনবল ও সম্পদ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল বরিশালসহ আশপাশের জেলার হাজারো মানুষ। ফলে সেবার মান নিয়ে কোনো ধরনের ঘাটতি দেখা দিলেই তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে অসন্তোষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগ ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি থেমে নেই। বরং সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের। তবে রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বরাদ্দ বাড়ানো গেলে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।