পোর্ট রোডের রাস্তা দখলের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে বিআইডব্লিউটিএ’র জমি দখল করে স্টল নির্মাণ এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বাপ্পী।
তার দাবি বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে জমি বৈধ উপায়ে লিজ নিয়ে স্টল নির্মাণ করেছেন। দীর্ঘ ২৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ভাবমূর্তি ও বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিজানুর রহমান বাপ্পী।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আবু নাহিয়ান নামের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে জায়গা দখল ও অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, যে দোকানঘরটির কথা বলা হচ্ছে সেটি কোনো ব্যক্তির জায়গা দখল করে নেওয়া নয়। ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছ থেকে দাপ্তরিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জায়গাটি লিজ নিয়েছি।
বাপ্পী বলেন, লিজ নেওয়া জায়গাটির দাগ নম্বর ৮৭৮ এবং দোকান নম্বর ৩। এটি বিআইডব্লিউটিএর সরকারি সম্পত্তি। লিজ নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত ভাড়া ও সরকারি পাওনা পরিশোধ করে আসছি।
তার ভাষ্য অভিযোগকারীর দাবি করা জায়গা এবং তার লিজ নেওয়া দোকানের মধ্যে প্রায় পাঁচ ফুট দূরত্ব রয়েছে এবং মাঝখানে একটি সরকারি ড্রেন রয়েছে। তাই তাকে অন্যের জায়গা দখলকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সরকারি জমি লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া রয়েছে উল্লেখ করে বাপ্পী বলেন, আমি সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই লিজ নিয়েছি। স্ট্যাম্প ও চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে লিজ নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত সরকারি পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর কোনো অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে জায়গা নেওয়ার অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ বলে উল্লেখ করেন এই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে বাপ্পী বলেন, আমার ব্যবহৃত দোকানটি নতুন করে রাতারাতি তৈরি করা কোনো স্থাপনা নয়। এটি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো একটি স্থাপনা এবং গত প্রায় ১৫ বছর ধরে আমি আইনানুগভাবে এটি পরিচালনা করে আসছি।
তার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘দখলবাজ’ হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যক্তিগতভাবে তার সম্মানহানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব প্রচারের মাধ্যমে বিএনপির ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মিজানুর রহমান বাপ্পী বলেন, বরিশালের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার বিভিন্ন বাস্তবতা কাছ থেকে দেখেছেন। বিআইডব্লিউটিএ কীভাবে সরকারি সম্পত্তি ইজারা দেয়, সেটিও তাদের জানা। তিনি সাংবাদিকদের সরেজমিনে তদন্ত করে লিজের কাগজপত্র, দোকানের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানহানি ও প্রযোজ্য সাইবার আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বাপ্পী বলেন, সব ধরনের অপপ্রচারের মধ্যেও সত্যের জয় হবে।
