মুলাদীতে কৃষককে পিটিয়ে পা ভাঙার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
বরিশালের মুলাদীতে ধানখেতে কাজ করার সময় ফিরোজ হাওলাদার (৪৪) নামে এক কৃষককে লোহার রড, হকিস্টিক, স্টাম্প ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ২১ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নেছার উদ্দিন সিকদারের ধানখেতে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফিরোজ হাওলাদার ওই এলাকার নিজাম উদ্দীন হাওলাদারের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, ধানখেতে সার দেওয়ার সময় সাহেবেরচর গ্রামের মজিবুর সিকদারের ছেলে শিবলু সিকদারের নেতৃত্বে ৯-১০ জন ব্যক্তি ফিরোজের ওপর হামলা চালান।
ঘটনার ১৪ দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিরোজের ছোট ভাই সিরাজ হাওলাদার বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করেন। মামলায় শিবলু সিকদার (৩০), মাসুদ পারভেজ ওরফে রিপন (৪৯), জাবেরুল সিকদার (৩৬), ইয়োরশেদ সিকদার (২০), মহিদুল সিকদার (২১) ও সোহান আকন (১৯)সহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাহেবেরচর এলাকা থেকে জাবেরুল সিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী সিরাজ হাওলাদারের অভিযোগ, আসামিরা ফিরোজকে ধানক্ষেতের আইলের কাছে ডেকে নিয়ে এক নারীর বিষয়ে কুপরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা লোহার রড, হকিস্টিক, স্টাম্প ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হলে তা ফিরোজের বাম পায়ে লাগে। এতে তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়।
পরে ফিরোজের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। পরে তাঁকে সেখানে ভর্তি করা হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, কৃষকের ওপর হামলা ও পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
