বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে অনশনে বসেছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
সোমবার দুপুর ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এর আগে সকাল থেকেই একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের অপসারণের জন্য সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় অনশনে বসার ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা চলছে। পাশাপাশি পক্ষপাতমূলক আচরণ, সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে বিভাগটির যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ে মাত্র দুটি ব্যাচের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এসময়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো.নাজমুল হোসেন বলেন, আমাদের দাবি বর্তমান ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারি চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ এবং বিভাগ থেকে অপসারণ। গতকাল আমরা উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এবং সংবাদ সন্মেলন করে বলেছিলাম আজ দুপুর ১২ টার ভিতর হাফিজ আশরাফুল হককে অপসারণ না করলে আমরা অনশনে বসবো। কিন্তু উপাচার্যের দপ্তরে আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করেও কোন সমাধান নে পেয়ে প্রায় ১৩০ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছি। যত সময় না পর্যন্ত এই স্বৈরাচার চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুলকে অপসারণ না করবে তত সময় পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাফিজ আশরাফুল হক বিভাগটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বেই রয়েছেন।