আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনায় ৬০ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তার ৩২

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:১৭, আগস্ট ২৭ ২০২৬ মিনিট

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গত ৮ জুলাই হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় ৬০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৩ জন এবং তদন্তে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১৭ জন। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২ জনকে। বরিশাল জেলা পুলিশ অডিটোরিয়ামে বুধবার বিকেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান। পুলিশ সুপার বলেন, এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এরপর কয়েক শ মানুষ থানায় হামলা চালান। হামলায় আহত হন চার পুলিশ সদস্য। গত ৮ জুলাই মাদক, চুরিসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ ফকির লোহার দরজায় আঘাত করেন এবং অসুস্থতার ভান করেন। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর এলাকায় রটে যায়, রিয়াজ ফকির মারা গেছেন। তবে খবরটি ছিল গুজব। এই গুজবকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পুলিশের ভাষ্য। পুলিশ সুপারের দাবি, একপর্যায়ে ২০০ থেকে ৩০০ মানুষের একটি দল থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তাকে মারধর করেন, থানার একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। হামলার ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এজাহারে নাম আসে ৪৩ জনের। তাদের মধ্যে আসামীর তালিকায় দুই সংবাদকর্মীর নাম রয়েছে। পরে তদন্তে আরো ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় পুলিশ। এই সব মিলিয়ে আসামী শনাক্ত হন ৬০ জন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ জন। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গুজবের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের কথাও বলেন পুলিশ সুপার।