বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ২৪ ঠিকাদারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি ও ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কোনো ঠিকাদারের কাজ শতভাগ শেষ হলেও বিল পরিশোধ হয় না। এমনকি মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে বিলের কাজ এগিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাজের জামানতের টাকা ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কথা বললে বিল আটকে দেয়া এবং কাজের সাইটে নানা ধরনের জটিলতা তৈরির আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। এ কারণে কয়েকজন ঠিকাদার ছদ্মনামে তাঁদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।
রাসেল (ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, কাজের মান শতভাগ ঠিক থাকলেও স্যারের নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হয় না। আমরা এখন পুরোপুরি তাঁর কাছে জিম্মি।
আরিফ (ছদ্মনাম) নামে আরেক ঠিকাদার বলেন, নাম প্রকাশ্যে এলে চলতি প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হবে এবং সাইটে নানা অজুহাতে ত্রুটি ধরা হবে। তাই বাধ্য হয়ে নাম গোপন রেখে প্রতিবাদ করছি।
অভিযোগে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ২৯ নভেম্বর ফারুক হোসেন নামে এক ঠিকাদারকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এর পরদিন ৩০ নভেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনায় লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২০৭৬) করেন ওই ঠিকাদার।
এ ছাড়া দপ্তরের সরকারি রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও সচিবের কাছে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহিদ (ছদ্মনাম) নামে এক ঠিকাদার বলেন, সরকারি রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক প্রধানের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
অয়ন (ছদ্মনাম) নামে আরেক ঠিকাদার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগ অস্বীকার নির্বাহী প্রকৌশলীর অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কতিপয় স্বার্থান্বেষী ঠিকাদার নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও অপপ্রচারমূলক অভিযোগ তুলছেন। দপ্তরের প্রতিটি প্রকল্প সরকারি বিধিমালা মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হবে।
তবে অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি সাক্ষাৎ না দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্পের মান নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।
