মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:২৯, আগস্ট ১৬ ২০২৬ মিনিট

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভাতিজার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ দেওয়ায় অভিযুক্ত ভাতিজা ও তার বাবার হামলায় কলিম উল্লাহ (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দিঘিরপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কলিম উল্লাহ একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে কলিম উল্লাহর বড় মেয়েকে (১৮) নিজ ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন তার বড় ভাই সয়ফুল্লাহর ছেলে জুবের আহমদ (২০)। এ ঘটনায় জুবের আহমদকে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে আটক করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের উদ্যোগে বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে জুবের আহমদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে সালিশের দিনক্ষণ সামনে রেখে ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে সয়ফুল্লাহ তার ছেলে জুবের আহমেদকে পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে নিয়ে বিয়ে করান। এদিকে বিচার না পেয়ে শনিবার গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন কলিম উল্লাহ। থানায় অভিযোগ করার পরপরই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ওই এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত জুবের আহমদ ও তার বাবা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা করেন। অতর্কিত হামলায় সয়ফুল্লাহর দায়ের কোপ কলিম উল্লাহর গলায় লাগলে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন কলিম উল্লাহকে উদ্ধার করে দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কলিম উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। গণামাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আক্রমণকারী সয়ফুল্লাহের এক ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে। জড়িত অন্যান্যদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে।’