বরগুনায় জমির বিরোধে বুকের ওপর পা চেপে বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড ১ নম্বর পুল এলাকায় আবদুস সালাম নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের ক্রয়কৃত ও সওজ থেকে লিজ নেওয়া জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলী হায়দার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে নিজের জমি দখলমুক্ত করতে পারেননি ওই শিক্ষক। এমনকি সওজ থেকে লিজ নেওয়া জমি উদ্ধারে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালে উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকরে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি তারা। সেই সুযোগে আলী হায়দার দফায় দফায় আবদুস সালামের পরিবারকে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি অন্য জমির দাগ উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে তিনি ওই শিক্ষকের জমিতে দখলদারিত্ব চালিয়ে যাাচ্ছেন।
জানা গেছে- অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুস সালাম ২০০৩ সালে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি ভবন তুলে বসাবাস শুরু করেন। এরপর ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তার জমির সামনে বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ১০৬৪ খতিয়ানের ৬৮৭০ দাগে সওজের অধিগ্রহণকৃত ২ শতাংশ জমি লিজ নেন। হঠাৎ সেই জমি নিজের দাবি করে সেই জমি দখল করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেন আলী হায়দার। এ নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয় শালিস-বৈঠক হলেও তা মানেননি তিনি। এদিকে সওজ থেকে লিজ নেওয়া জমি উদ্ধারে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালেও তারাও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। সেই সুযোগে আলী হায়দার দফায় দফায় আবদুস সালামের পরিবারকে হয়রানি করছেন। সুচতুর আলী হায়দার নিজেকে রক্ষার্থে সওজের অধিগ্রহণকৃত বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ১০৬৪নং খতিয়ানের ৬৮৭০নং দাগ উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে তিনি ওই শিক্ষকের জমিতে দখলদারিত্ব চালিয়ে যাাচ্ছেন। এমনকি ওই জমিতে থাকা একটি দোকানে একটি সাইনবোর্ড টানিয়েছেন। তবে এসএ খতিয়ানে তাদের কোন সম্পত্তি নেই।
জানা গেছে- আলী হায়দারের বাবা মালেক সিকদারের নামে ৮ শতাংশ জমি ছিল। যা তার বাবা জীবিত থাকতে ১৯৮০ সালে কায়সারুল ইসলামের কাছে দুইটি দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করেছিলেন। এরপর কয়েকজন মালিক পরিবর্তন হওয়ার পর ফায়জা বেগম ও মেজর নুরের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন আবদুস সালাম।
আবদুস সালাম অভিযোগ করে বলেন- আলী হায়দারের বাবা তার সকল জমি বিক্রি করে গেছেন। এরপর কয়েকজন মালিক পরিবর্তন হওয়ার পর আমি জমি ক্রয় করেছিলাম। তখন আলী হায়দারের বাবা মালেক সিকদার ওই জমির ওপরে তাদের কোন দাবি নেই বলে ৩০০ টাকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ‘না দাবি’ দিয়েছিলেন। তবে এখন কেন আলী হায়দার ওই জমিতে দাবি খাটাচ্ছেন আমি বুঝিনা। প্রশাসনও আমাকে সহায়তা করছেনা। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আলী হায়দার প্রতিনিয়ত আমাদের হয়রানি করে যাচ্ছে। আমি দখলদার আলী হায়দারের হাত থেকে আমার জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
