পটুয়াখালীতে সালিশ-বৈঠকে নারী ইউপি সদস্যকে মারধর

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩১, আগস্ট ১৪ ২০২৬ মিনিট

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় তানিয়া বেগম (৩৮) নামের এক ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার সময় উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘেরাখালী মোল্লা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত তানিয়া বেগম মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

ভুক্তভোগী তানিয়া বেগমের দাবি, স্থানীয় একটি বিরোধের সালিশ-বৈঠকে সালিশদার হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তার হাতে ও মাথায় আঘাত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি সালিশদার হিসেবে সেখানে যাওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলাম। সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে খবির, লিটন গাজী, রিপন, রত্তন, আলমগীর, লিমন ও লতিফ সিকদারসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করেন। হামলায় আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি বিচার চাই।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তানিয়া বেগমের ভাই জলিল বলেন, ‘আমার বোন সেখানে সালিশদার হিসেবে গিয়েছিলেন। তাকে দেখেই হামলাকারীরা প্রশ্ন করেন, এখানে কেন এসেছেন। এরপর তার ওপর মারধর শুরু করেন। হামলাকারীদের কয়েকজন একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওই মামলায় আমার বোন সাক্ষী। ওই মামলার জের ধরেই তার ওপর হামলা করা হয়েছে।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান মোল্লা বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ওই দিন সালিশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগের দিন কয়েকজন সেখানে ঘর নির্মাণ করতে যান। বিষয়টি ইউপি সদস্যকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে পৌঁছানোর পরই তার ওপর হামলা করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় আলেপ মোল্লা, শাহজাহান মোল্লা, লাইজু, সাহিদা ও জলিলসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে ইউপি সদস্য তানিয়া বেগমকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিটন গাজী। তিনি বলেন, ‘তানিয়া মেম্বারকে কেউ মারধর করেনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় রাস্তায় মাটিতে শুয়ে পড়েছেন। তিনি সালিশদার, আমরা কেন তাকে মারব?’

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পরে এ বিষয়ে আর কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’