ভারতে পালানোর সময় বরিশালের জহিরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি আটক

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:০৪, আগস্ট ১১ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জহিরুল শিকদারকে (৪৬) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সেন্টু শিকদারকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব- ৮)।

ভারতে পালানোর সময় নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন বড় বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান।

গ্রেপ্তার সেন্টু বরিশালের আগৈলঝাড়া থানাধীন পশ্চিম গোয়াইল এলাকার আনিস শিকদারের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গ্রেপ্তার সেন্টুসহ মামলার অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গত ১ জুলাই প্রথমে ভিকটিম জহিরুল শিকদারকে মারধর করেন। এরপর মীমাংসা করার কথা বলে গত ১ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসা থেকে ডেকে তাকে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এরপর গ্রামের পশ্চিম গোয়াইল মসজিদের পাশের সড়কে জহিরুলকে নিয়ে সেন্টুসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা মিলে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত সেন্টু লোহার রড দিয়ে জহিরুলের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন।

ওইসময় জহিরুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে বরিশাল আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‌্যাব-৮ এর বরিশাল সদর কোম্পানি ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রধান আসামি সেন্টু অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৮, বরিশাল।

বরিশাল র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, র‌্যাব-৮ এর বরিশাল সদর কোম্পানি, বরিশাল, র‌্যাব-১ এর গাজীপুর সিপিএসসি, র‌্যাব-৩ এর সিপিসি-২ এবং র‌্যাব-১৪ এর ময়মনসিংহ সদর কোম্পানির একটি যৌথ আভিযানিক দল নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন বড় বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় ভারতে পালানোর সময় সেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সেন্টুর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।