বরিশালে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি ‘হত্যা’

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:০১, আগস্ট ১১ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, মোমেনা বেগমকে (২৪) হত্যা করে মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল।

সোমবার গভীর রাত ৩টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকার ছাগলহাটা থেকে মোমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে আসেন।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগম বলেন, মোমেনা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামী সোহাগ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি টরকী বন্দরের ছাগলহাটা এলাকায় মন্টু সরদারের ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগম অভিযোগ করেন, দেশে ফেরার পর থেকেই স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সোমবার বিকালে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, রাত ১২টার দিকে বিদেশ থেকে সোহাগ তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার কথা জানান। পরে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান।

এরপর মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মোমেনাকে দেখতে পান তারা।

তবে তার দুই পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে ছিল বলে জানান জিয়াউর রহমান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।