ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া চাল বিতরণ ও উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক প্রকৃতপক্ষে চাল গ্রহণ করেছেন কি না এবং উত্তোলন করা চাল কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখবে কমিটি।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে গত ৪ আগস্ট জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত কমিটিকে আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গত ২৪ মে নলছিটি উপজেলার ৪১টি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৩ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মসজিদের নামে বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন ও ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঝালকাঠির ফিল্ড সুপারভাইজার। নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত নলছিটি উপজেলার কাঁঠিপাড়া গ্রামের মিয়া বাড়ি জামে মসজিদকে ঘিরে। মসজিদের সভাপতি বাহাউদ্দিন মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে তিনি দাবি করেন, তাঁদের মসজিদের নামে এক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি কিংবা মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্য কোনো সদস্য এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এমনকি তাঁরা কোনো চালও গ্রহণ করেননি।
বাহাউদ্দিন মিয়ার অভিযোগ, তাঁদের মসজিদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ ওই চাল উত্তোলন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে নলছিটির সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন বলেন, “আমার বদলি হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নলছিটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “৪১টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লাগবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নলছিটিতে জিআর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
