বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রাবাসে শিবিরের ৯ কর্মীর কক্ষে ছাত্রদলের তালা
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২০:৪৮, আগস্ট ০৭ ২০২৬ মিনিট
বরিশাল সরকারি (বিএম) কলেজে ছাত্রশিবিরের ৯ জন কর্মীকে ছাত্রাবাস থেকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা লাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নালিশ দিতে অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে শিবির সভাপতিসহ অন্যদের ধাক্কাধাক্কি করে ক্যাম্পাস থেকে বের দেয় ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (০৬ জুলাই) দুপুরে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে এসব ঘটনা হয়।
কলেজ শাখা শিবির সভাপতি মো. নাহিদ আল হাসান সাংবাদিকদের জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে দুটি ছাত্রাবাসে শিবির কর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেছে। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। বিষয়টি আলোচনার জন্য তিনি অন্যান্য কর্মীদের নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। এ খবর জেনে কলেজ শাখা ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়েরসহ সহযোগীরা গিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। পরে অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস থেকে ৯ কর্মীকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে ছাত্রদল।
কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সাহেদ খান অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধাক্কা, কলার ধরে টেনে বের করে দেওয়া এবং মারধর করা হয়। ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
তবে বিএম কলেজ শাখার সভাপতি রাকিবুল দাবি করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তারা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। ছাত্রাবাস থেকে শিবির কর্মীদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে বলেন, এ বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি শুনেছেন আগে শিবিরের কিছু নেতাকর্মী দুটি ছাত্রাবাস জোর করে কক্ষ দখল করে রেখেছিল। হয়তো সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ওই কক্ষে উঠেছেন।
অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান জানান, ছাত্রাবাস থেকে কয়েকজন ছাত্রকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির। বিষয়টি তদন্ত করে সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, শিবির নেতাকর্মীরা এসেছিল ক্যাম্পাসের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে দুইপক্ষ মুখোমুখি এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন।’