বরিশাল ও মাদারীপুরে দায়ের হওয়া একাধিক মানবপাচার মামলার আসামি ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার তাকে বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। এর আগে শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে র্যাব-১২ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার ইলিয়াস গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুরে অন্তত চারটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে রাসেল বেপারীকে (২৯) ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাসেলের পরিবার দালালচক্রের হাতে ওই টাকা তুলে দেয়। পরদিন তাকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা, পরে সৌদি আরব, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর রাসেলকে একটি চক্র জিম্মি করে নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও নগদে আরও ২৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবুও তাকে ইতালিতে না পাঠিয়ে গত ১৬ জুন বিমানে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরে গত ১২ জুলাই রাসেল বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি ইলিয়াসকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুরেও তিনটি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল সাংবাদিকদের জানান, লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার এক যুবকের করা মামলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। তার বিরুদ্ধে অন্য মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে সেসব মামলায়ও তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।’