বরগুনায় চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারে গিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা-স্বর্ণালংকারসহ দুই বোন আটক

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:৩৬, জুলাই ৩০ ২০২৬ মিনিট

চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে বরগুনায় নগদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় তাদের দুই স্বজন পালিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। এর আগে, বুধবার (২৯ জুলাই) বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া নামক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত দুই নারী হলেন, সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামের সোহেলের স্ত্রী মোসা. খাদিজা (৪০) ও ইব্রাহীমের স্ত্রী মোসা. মরিয়ম (৩৫)। তারা সম্পর্কে আপন বোন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার দিনগত রাতে আদাবাড়িয়া গ্রামের সোহেল-খাদিজা দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় সোহেল। পরে বাড়ির সামনে লুকিয়ে রাখা একটি অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সোহেল-খাদিজা দম্পতির ঘরে তল্লাশি চালায় পুলিশ। পরে তাদের জীর্ণ ঘরের মধ্যে একটি নতুন আলমিরা দেখতে পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

এ সময় পুলিশ আলমিরা খুলতে বললে খাদিজা জানায়, আলমিরা তার নয়, তার বোন মরিয়মের। পরে মরিয়মের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় আলমারির চাবিসহ মরিয়মকে নিয়ে আসা হয় খাদিজার বাড়িতে। এ সময় চাবি দিয়ে আলমিরা খোলা হলে নয় লাখ ত্রিশ হাজার টাকা ও ৬ ভরি ১১ আনা পাঁচ রত্তি স্বর্ণালংকার জব্দ করে পুলিশ। এরপর মরিয়ম ও খাদিজাকে আটক করা হলেও পালিয়ে যায় খাদিজার স্বামী সোহেল। পরে তাদের বিরুদ্ধে চুরি, চোরাই মাল সংরক্ষণে রাখা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, মরিয়মের পাকা বাড়ি হলেও তিনি তার বোনের কুড়ের ঘরে নতুন আলমারির মধ্যে টাকা ও স্বর্ণালংকার রেখেছেন, যাতে তাদের কে কেউ সন্দেহ না করে। টাকাও স্বর্ণকার উদ্ধার হওয়ার সময় মরিয়মের স্বামী ইব্রাহিম সম্পর্কে আমরা তথ্য নিয়ে জানতে পারি, তিনি ঢাকায় সিএনজি চালক হিসেবে কাজ করেন এবং তার বিরুদ্ধে চুরি, মলম পার্টি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তখন আমরা নিশ্চিত হই, হয়ত বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিরাপদে রাখার জন্যই ওই বাসায় রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে।