ভাড়াটে লোক দিয়ে চলছে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিতর্কিত করার মিশন!

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:২৬, জুলাই ৩০ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে একশ্রেণির মতলববাজ ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। উদ্দেশ্য গোপন রেখে অর্থ ও নানা প্রলোভনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং গ্রাম্য মহিলাদের এনে কালো পতাকা প্রদর্শন ও ঝাড়ু মিছিলের মতো মনগড়া নাটক সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন অভিযোগ তোলা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- সদ্য ঘোষিত বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে যারা রাজপথে সোচ্চার, তাদের বড় একটি অংশ অতীতে সরাসরি সাবেক শাসক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল এবং নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল। যার পর্যাপ্ত ছবি, ভিডিও ও নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

মূলত আগামী ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তাদের পছন্দের অনুসারীদের শীর্ষ পদে বসাতে ব্যর্থ হয়ে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া ওই অনুসারী ও বর্তমান কমিটির কয়েকজন পদধারী নেতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নবগঠিত কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমিনকে দমাতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

আলহাজ্ব নুরুল আমিন রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি। পূর্বে তিনি সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে তার ভাই রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং নুরুল আমিন নিজে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজপথে তাকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষরা সুবিধাবঞ্চিতদের সাথে নিয়ে এই চক্রান্তে নেমেছে। তারা ভাড়াটে লোক দিয়ে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের দিয়ে আন্দোলন করানো হয়েছে তারা জানেই না কিসের দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছে।

এছাড়া কমিটিতে মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তির যে অভিযোগ উঠেছে, মূলত কমিটি গঠনের তালিকা করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রকে অবগত করা হয়েছে। আহ্বায়ক নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ সমালোচকেরা দেখাতে পারেনি।

দলীয় নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নুরুল আমিন রাজপথের অগ্রভাগে ছিলেন। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ২৬টি রাজনৈতিক মামলা হয় এবং তিনি চারবার কারাবরণ করেন। ২০০৩ সালের সিটি নির্বাচন, ২০১২ সালের ঢাকা চলো কর্মসূচি, ২০২২ সালের বরিশালের বিভাগীয় গণসমাবেশ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সার্বিক বিষয়ে আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমিন বলেন, যাঁরা আজ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তারা অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হিসেবে কাজ করেছেন। আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় একটি মহল সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে রাজপথে এনে নাটক সাজাচ্ছে। কেন্দ্র আমার দীর্ঘ ত্যাগ ও তৃণমূলের জন বান্ধব প্রিয় নেতা হিসেবে সঠিক মূল্যায়ন করেছে, যা একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী মেনে নিতে পারছে না।

এদিকে বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবিলম্বে অর্থের বিনিময়ে লোক ভাড়া করে কেন্দ্রের অনুমোদি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

প্রভাবশালী কোন নেতা তাদের পছন্দের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে পেছন থেকেই দিচ্ছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখার জন্য বিএনপির হাই কমান্ডের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।