বরিশালে ডিম-পাউরুটি কাণ্ডে বিভাগীয় মামলার পর এবার অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠিত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি অধিদপ্তর পর্যায়ে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুলাদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মো. রেজাউল করিম এবং বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. খালেদ সফিউল্লাহ জাবেদকে। তারা অভিযোগের সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
জানা গেছে, এর আগে ২৮ জুন প্রধান শিক্ষিকার কাছে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সুপারিশে গত ২৯ জুন সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ জুন। সেদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ২৪টি ডিম ও ২২ পিস পাউরুটি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ প্রধান শিক্ষিকার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।
নোটিশে বলা হয়, এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে এবং জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকার লিখিত ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের গভীরতা ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অধিদপ্তর পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
