বিষখালীর বুকে দুই সেতুর স্বপ্নে নতুন গতি, উদ্যোগে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা বিষখালী নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব একটা হয়নি। ফলে ফেরিনির্ভর যোগাযোগ, সময়ক্ষেপণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ভোগান্তি দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী।
এবার সেই দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। তার উদ্যোগে বিষখালী নদীর ওপর দুটি পৃথক সেতু নির্মাণের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত দুটি সেতুর একটি হবে রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া থেকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। অন্যটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া-বেতাগী ফেরিঘাট এলাকায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড়ইয়া-নিয়ামতি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এবং কচুয়া-বেতাগী সেতুর জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগে পৃথক ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার পাঠিয়েছেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর দুটি প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় নিয়েছে এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতেও বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় এলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে বর্তমান উদ্যোগকে ঘিরে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত দুটি সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি, বরিশাল, পিরোজপুর ও বরগুনা—এই চার জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি সময় সাশ্রয় হবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, সেতু দুটি বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল-খুলনা-ভান্ডারিয়া-কাঁঠালিয়া হয়ে পটুয়াখালী, বাউফল, দুমকী, লেবুখালী, পায়রা সমুদ্রবন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মির্জাগঞ্জ, বেতাগী ও বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে কুয়াকাটা থেকে মংলা পর্যন্ত যাতায়াতে ফেরিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
তবে প্রকল্প দুটি এখনও প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ডিপিপি অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও নির্মাণকাজ শুরুর পরই বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ হবে। তাই কবে নাগাদ সেতু দুটি নির্মাণ সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সমাজ সংগঠক আতিকুর রহমান রুবেল বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই দুটি সেতু। সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও উন্নয়নের চিত্র বদলে যাবে।”
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আলোচিত এই দুই সেতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিষখালী নদীর দুই তীরের মানুষের স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে।
