স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডির ট্রলার, ছোট জাহাজ ও জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ ছিল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ জেলের ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধান চালান।
অনুসন্ধানের সময় তিনি জেলের পরিচয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মুঠোফোনে তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকাশে কিছু টাকা পাঠানোর পর তা কম হয়েছে জানিয়ে আরও টাকা নিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলা হয়।
পরদিন জেলের ছদ্মবেশে সাংবাদিক চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এএসআই কবির তাঁকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে নিজ হাতে গুনে রাখেন। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অনুসন্ধানের সময় এএসআই কবিরের সঙ্গে কথোপকথনে আদায় করা অর্থের ভাগ-বণ্টন নিয়েও বিভিন্ন বক্তব্য উঠে আসে। এ সময় তিনি দাবি করেন, আদায় করা টাকার একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছে দিতে হয়।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ বলেন, জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করে আসছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তিনি জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধান চালান। তাঁর দাবি, এএসআই কবির হোসেন সরাসরি টাকা দাবি করেন। বিকাশে টাকা নেওয়ার পর বাকি টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন এবং টাকা না দিলে নদীতে ট্রলার চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে গোপন ক্যামেরার ভিডিও দেখানোর পর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অপর এক সদস্য প্রতিবেদকের হাত থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী (গজ গভীর) মিয়া বলেন, এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে এএসআই মো. কবির মুঠোফোনে বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই।
বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
