বরগুনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহার
বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী। উভয় পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট ‘ভুল বোঝাবুঝি’র অবসান হওয়ায় অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ৬ জুন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন সময় তাকে অফিস কক্ষে ডেকে সুরুচিবিরোধী ইঙ্গিত, মানসিক হয়রানি এবং অশোভন আচরণ করতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৩ জুলাই সকালে হোয়াটসঅ্যাপ কলে অফিস কক্ষে ডেকে তাকে ডরমিটরির কক্ষে একসাথে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হয়ে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। পরদিন হাসপাতালে রাউন্ডের সময় স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নিজেকে সম্মানহানির শিকার ও নিরাপত্তাহীন মনে হওয়ায় তিনি বিষয়টির তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে ডা. লুৎফুন্নাহার লনী জানান, হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়ায় তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।
তিনি বলেন, কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসককে নিয়ে আলোচনায় বসার পর বিষয়টির সমাধান হয়েছে। তাই তিনি আর অভিযোগ বহাল রাখেননি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ডা. লনী নিয়মিত অফিস করতেন না এবং সময়মতো উপস্থিত হতেন না। এসব বিষয় নিয়েই তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের পরও স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক তদন্ত করবে কি না বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গুরুতর অভিযোগ দায়েরের এক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’র কারণ দেখিয়ে প্রত্যাহার করায় হাসপাতাল অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা প্রশ্ন না থাকে।
