বরিশালে হিন্দু যুবককে খাসির কাচ্চির বদলে গরুর মাংস পরিবেশনের অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:৪৩, জুলাই ২১ ২০২৬ মিনিট

বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকার দি ফ্যান্টাসি কুজিন রেস্টুরেন্টে খাসির কাচ্চির পরিবর্তে হিন্দু যুবককে গরুর কাচ্চি পরিবেশনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক হিন্দু শিক্ষার্থী তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের চার শিক্ষার্থী রেস্টুরেন্টটিতে খাবার খেতে যান।

তারা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অমরেশ চন্দ্র মণ্ডল এবং সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাহমুদ উন নবী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. আয়াত ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের মো. তামিম ইসলাম।

ভুক্তভোগী অমরেশ চন্দ্র মণ্ডল অভিযোগ করেন, প্রথমে তার প্লেটে পরিবেশিত মোরগ পোলাওয়ে চুল পাওয়ায় তিনি সেটি পরিবর্তনের অনুরোধ করেন। পরে তিনি কাচ্চি বিরিয়ানি অর্ডার করলে একজন ওয়েটার তাকে জানান এটি বিফ কাচ্চি। তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় গরুর মাংস খান না এবং খাসির কাচ্চি দিতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে কাচ্চি পরিবেশন করা হয়। তিনি ও তার বন্ধুরা সেটি খাওয়ার পর জানতে পারেন, সেটি খাসির নয়, বরং গরুর কাচ্চি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় অমরেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমি শুরুতেই জানিয়েছিলাম যে আমি হিন্দু এবং গরুর মাংস খাই না। তারপরও যদি ইচ্ছাকৃত বা অবহেলার কারণে আমাকে গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়ে থাকে, তবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে দি ফ্যান্টাসি কুজিন রেস্টুরেন্টের পরিচালক মো. রিজোয়ান ইসলাম বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল হয়েছে। আমরা ভুক্তভোগীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ক্ষমা চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বরিশালের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ ও প্রাথমিক প্রমাণসহ আমাদের কাছে আবেদন করলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ দত্ত বলেন, এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা, খাদ্যের সঠিক পরিচয় গোপন করা কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে খাবার পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শুধু ভোক্তার অধিকারই ক্ষুণ্ন হয় না, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসেও আঘাত লাগে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’