বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুনচর গ্রামে একটি নির্মাণাধীন বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির খবর পেয়ে মঙ্গলবার খুব সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নতুনচর এলাকার সুমন হাওলাদারের নির্মাণাধীন বসতবাড়ির ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে কয়েকজন ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা সুমন হাওলাদারের স্ত্রী রুমা আক্তার ও আট বছর বয়সী কন্যা সামিয়া আক্তারকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
রুমা আক্তার জানান, তার স্বামী সুমন হাওলাদার চাকরির কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকেন। রাতে মেয়ের বাথরুমে যাওয়ার ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। এ সময় ঘরের ভেতরে ডাকাতদের দেখতে পেয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে এক ডাকাত তার গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং শিশুকন্যাকে হত্যার হুমকি দেয়।
পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা সিন্দুকের চাবি ছিনিয়ে নেয়। সিন্দুকে থাকা নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক চৌকিদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। কার্যকর পুলিশি টহল ও নজরদারির অভাবে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের অবাধ বিচরণও উদ্বেগজনক। দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় সমাজসেবক সরোয়ার শরীফ ও আবদুল হাকিম বলেন, এলাকায় মাদক কারবার ও অপরাধপ্রবণতার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধও অনেকাংশে কমে আসবে।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকাতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করাসহ গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’