চরমোনাইতে এক মঞ্জুর মোর্সেদের কারনে পথে বসতে যাচ্ছে ২ শতাধিক পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে চাষাবাদ ও পানি নিষ্কাশনের কালবার্ট আটকে দিয়ে শত শত একর কৃষি জমির চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ঘের মালিকের বিরুদ্ধে। এতে করে দুই শতাধিক কৃষকের চাষাবাদ বন্ধ হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি ওই গ্রামে জলবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে চরমোনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ জিয়াউল করিমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে গ্রামবাসী। অপরদিকে চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ জিয়াউল করিম গ্রামবাসীর পক্ষে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে কৃষক ও কৃষি জমি রক্ষায় ১১৯ জন ভুক্তভোগী কৃষক লিখিত অভিযোগের সাথে গণস্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- চরমোনাই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডস্থ ডিংগামানিক ও রাজারচর গ্রামে প্রায় শত শত একর জমিতে ইরি ও আমন ধানের চাষ হয়। ওই জমির মধ্যে দিয়ে একটি ঘের করা হয় কিন্তু বিগত দিনে ঘেরের মধ্যে দিয়ে পানি চলাচলের জন্য দুইটি নালা ছিল। যা দিয়ে কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন হতো। পরে সেখানে গ্রামবাসী একটি কালবার্ট নির্মাণ করেন। ওই ঘেরের জমি ক্রয় করেন প্রভাবশালী মঞ্জুর মোর্সেদ খান। চলতি বছর তিনি ঘেরের মধ্যে ১০ হাজার মুরগী পালনের জন্য একটি ফার্ম নির্মাণ করেন এবং ক্ষমতার দাপটে কালবার্টটি বন্ধ করে দেন। এর ফলে চাষাবাদ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং মুরগীর বিষ্টা জমির পানি ফালানোর জন্য রাজারচর ও ডিংগামানিক গ্রামের দুই শতাধিক চাষী চাষাবাদ করতে পারছেনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই সব এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়ে গ্রামবাসী। চাষাবাদ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্টের দুইপাশ ভরাট করে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে যখন চাষাবাদের জন্য পানির প্রয়োজন তখন প্রতিবন্ধকতার জন্য পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ- কয়েকদিন আগে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে ঘের মালিক মুঞ্জুর মোর্সেদ খান কালবার্টের দুপাশ ভরাট করে ফেলেন। এতে ওই জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে ওই জমিতে চাষবাদ করতে পারছেনা কৃষকরা। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চরমোনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ জিয়াউল করিম বলেন- গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। তবে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অতঃপর গ্রামবাসীর পক্ষে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফরিদা সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তহশিলদারকে সরেজমিনে পাঠিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে কৃষক ও কৃষি জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কৃষক ও কৃষি জমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী।
