বরিশালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে আর্চ গার্ডার সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২৩:০৪, জুলাই ১৫ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল এলজিইডি গৌরনদী-সরিকল জিসি সড়কে প্রায় দেড় শ ফুট দৈর্ঘ্যের আরসিসি ‘আর্চ গার্ডার সেতু’র নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। খরস্রোতা আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী খালের ওপর প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নান্দনিক এ সেতুটি শুধু সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, তা স্থানীয় বিশাল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নিবিড় নজরদারিতে নির্মিত এ সেতুটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, তা বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার পাশাপাশি গৌরনদীকে উন্নয়নের এক নতুন মাইলফলকে যুক্ত করেছে। এ সেতুটি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ যেকোনো অসুস্থ মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা সেবার আওতায় আনতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও এ আর্চ গার্ডার সেতুটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসনও স্বীকার করছে।

একটি স্প্যানের ওপর নির্মিত এ আরসিসি সেতুটির দুটি এবাটমেন্ট ও ২২৪ মিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে। এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান জানান, আধুনিক নির্মাণশৈলীর এ সেতুটি নির্মাণে নিবিড় তদারকি এবং সবার মাঝে উন্নয়নমুখী কর্মপরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ ছিল। বরিশালের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কহিনুর এন্টারপ্রাইজ প্রায় ৩১ মাসে সেতুটিসহ সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।

এলজিইডি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী উন্নয়নে ইতোমধ্যে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে সমৃদ্ধ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ইতোমধ্যে এক অনন্য উচ্চতায় উপনীত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে পল্লী অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে এলজিইডি। এমনকি টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের পল্লী এলাকার কৃষি উৎপাদন ও বিপণন থেকে শুরু করে বাজার সংযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও এলজিইডি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হয়ে উঠেছে।

গৌরনদীর পালরদীর আর্চ গার্ডার সেতুটিও ইতোমধ্যে সুদূর পল্লী এলাকার সাথে উপজেলা সদরের টেকসই ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।