বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালকের স্বপক্ষে অবশেষে মাঠে নামলেন নাগরিক সমাজ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:২৭, জুলাই ১১ ২০২৬ মিনিট

মবসন্ত্রাসের শিকার বরিশালের নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীনের পাশে এসে দাঁড়ালেন নাগরিক সমাজ। করোনাযোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত এই চিকিৎসককে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে তা নিয়ে আপত্তি তোলেন ড্যাবের একটি অংশ। এবং এই অংশটি নেপথ্যে থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি মোর্চা গঠন করে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর আখ্যায়িত করাসহ তাকে জুলাই আন্দোলনবিরোধী তকমা দেওয়া হয়। পাশাপশি ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে তাকে অপসারণকে একটি সাজানো ছকে আন্দোলনময় পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ফলে নিরুপায় চিকিৎসক কোনো উপায়ান্ত পাচ্ছিলেন না, আগামীতে কোন দিকে যাবেন এবং কি পদক্ষেপ রাখবেন। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার তার স্বপক্ষে মাঠে নামে নাগরিক সমাজ, যা চিকিৎসকের জন্য স্বস্তিদায়ক। শহরের অশি^নী কুমার হলের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে চিকিৎসক মনিরুজ্জামান শাহীনের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নতুন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং করোনাকালীন দুর্যোগে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করা হয়। বক্তারা বলেন, ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীন একজন পেশাদার ও দক্ষ সরকারি কর্মকর্তা। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অথচ দুঃখজনকভাবে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিগত সরকারের মন্ত্রীদের সাথে দাপ্তরিক কাজের কিছু ছবিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ, ইর্ষা এবং পদ-পদবির লোভ থেকে যাকে তাকে স্বৈরাচারের দোসর ট্যাগ লাগিয়ে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যে নোংরা মব কালচার দেশে শুরু হয়েছে, তা চরম অন্যায় এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়। বক্তারা আরও বলেন, করোনাকালীন চরম সংকটের সময়ে যখন সাধারণ মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে মানবসেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার সেই মানবিক ও নিষ্ঠাপূর্ণ অবদানকে বরিশালের মানুষ আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। অথচ আজ একটি মহল চিকিৎসকদের একাংশকে বিভ্রান্ত করে বিক্ষোভের নামে বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। মানববন্ধনে উপস্থিত নাগরিকরা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের উস্কানি ও মিথ্যা অপপ্রচারে কান না দিয়ে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনের মতো একজন যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তাকে বরিশালের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক। একই সাথে যারা স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে (বরিশাল) মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করা জরুরি, মস্তব্য পাওয়া যায়। মানববন্ধনে বরিশালের বিভিন্ন পেশাজীবী, সমাজকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশ নেন। অবশ্য আন্দোলনরতদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের বিরোধীতা করেছিলেন ডা মনিরুজ্জামান শাহীন। এমনকি তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থিতদের আয়োজিত শান্তি সমাবেশেও অংশ নিয়েছেন। তার জুলাই বিরোধী অবস্থানের কারণে ড্যাবে বরিশাল শাখার একটি অংশ তাকে বরিশালে পদায়নে খুশি নয়। তাছাড়া জুলাইয়ের ভ‚মিকা নিয়েও তার ওপর অনেকে সংক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে ডা মনিরুজ্জামান শাহীনের ভাষ্য হচ্ছে, তৎকালীন তিনি শেবাচিমের উপ-পরিচালক ছিলেন, পদাধিকার বলে তাকে শান্তি সমাবেশে অংশ নিতে হয়। কিন্তু সেখানে তিনি জুলাইবিরোধী তেমন কিছু বলেননি। কারণ এই চিকিৎসক ছাত্রজীবনে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ড্যাবের আজীবন সদস্য বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, যোগ্যতার কারণে মনিরুজ্জামান শাহীনকে বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পদায়ন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। কিন্তু তিনি যোগদানের একদিন পরেই মবসন্ত্রাসের শিকার হয়েছে, যা উদ্বেগ এবং আতঙ্কের। বিষয়টিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শনিবার মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজ।’