বাউফলে যুবককে অপহরণের অভিযোগে বিএনপির সভাপতিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:২৭, জুলাই ০৭ ২০২৬ মিনিট
পটুয়াখালীর বাউফলে নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামে এক যুবককে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ এনে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ বিএনপির ১৪ জন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কে দেওয়া দিয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন মৃধা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিম মামলাটি গ্রহণ করে ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বদলুল হক বাদল জানান, মামলায় বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বাউফল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ ওরফে হাজী পলাশসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাত থেকে আটজন অজ্ঞাত নামা পরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসির উদ্দিনকে অপহরণ করে বাউফলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল থানার পুলিশ উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওযায় তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী ও মাসুম বিল্লাহ ওরফে হাজী পলাশ। তাদের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
নাসির উদ্দিন মৃধা দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক ও কর্মী। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদকে নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেওয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মামুনকে মারধরের ঘটনায়ও আলী আজম চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে।