জাল সনদ ও নাবালিকা বিয়ের অভিযোগে উত্তাল বিদ্যালয়, তথ্য সংগ্রহে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন দরগাহ শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে করে সংসার করার অভিযোগ, অপর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ এবং এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মো. মনজুর মোর্শেদ তুহিন জানান, গত ৫ জুলাই তিনি ও সাংবাদিক মো. বাদল হোসেন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদ্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি শিক্ষক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক নাবালিকা শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে একসঙ্গে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষিকা ছবি রানী খাসকেলের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণের অভিযোগে পূর্বে শিক্ষা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহের সময় শিক্ষক ছবি রানী খাসকেলের উপস্থিতিতে এবং শিক্ষক মো. সোহেল ও মো. বিল্লাল হোসেন রাজুর প্ররোচনায় বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দপ্তরী) মো. জলিল গোলদার সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি লোহার হাতুড়ি হাতে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা স্কুলের সিসিটিভি ও সাংবাদিকদের মুঠো ফোনে ভিডিও ধারণ করা রয়েছে।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে বের করে দেয়। পরে এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় জিডি নং-১৯১ (তারিখ: ০৫ জুলাই ২০২৬) দায়ের করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. জলিল গোলদারের নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগের সময় তিনি অষ্টম শ্রেণির জাল সনদ ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ ও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষক মোঃ সোহেল বলেন, ভুল তো মানুষই করে, আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটা আমরা পারিবারিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে করেছি।
শিক্ষক ছবি রানী খাসকেল বলেন, ২০০৩ সালে আমি চাকরিতে যোগদান করি। নিয়োগ কমিটির রেজুলেশন অনুযায়ী পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষা সনদ নিতে বলা হয়েছিল যা আমি অর্জন করেছি। যেখানে জমা দেওয়ার সেখানে দিয়েছি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহআলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। অতি শীঘ্রই বিধি অনুযায়ী রেজুলেশন এর মাধ্যমে তদন্ত কমিটি করে প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মোঃ রাসেল বলেন, বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে অথবা তিনি নিজে এককভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ঘটনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন এবং পুনরায় আমাকে অবগত করবেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহা মজিবুর রহমান বলেন, একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সকল বিষয় আমলে নিয়ে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
