তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবল সংকট, ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:৫১, জুলাই ০৪ ২০২৬ মিনিট
ভোলার তজুমদ্দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারী না থাকায় প্রতিদিন শত শত রোগী কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নষ্ট হচ্ছে এক্স-রেসহ গুরুপূর্ণ যন্ত্রপাতি
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে মাত্র ৪জন শূণ্যতার হার ৮২.৬১%, নার্স ৩২ জনের বিপরীতে ২৬জন কর্মরত, মেডিকেল ট্যাকনোলজিষ্ট ৬জনে কর্মরত রয়েছে ২জন শূণ্যতার হার ৬৬.৬৭%, ফিল্ডষ্টার্ফ ৪০ জনে ২৭জন কর্মরত, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির পদ ৩৩টির বিপরীতে ১৪জন কর্মরত ও হোমিও প্যাথির একটি পদে ডা. রাজিব ঘোষ যোগদান করার পর থেকেই প্রেষণে রয়েছে পাশ্ববর্তী উপজেলা বোরহানউদ্দিনে। ফলে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একজনকে সব ধরনের রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে, যা সেবার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। হাসপাতালটিতে জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ থাকলেও কর্মরত না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভোলা সদরসহ বিভাগের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করতে হয়। এছাড়াও অপারেশন থিয়েটার থাকলেও কোন জনবল না থাকায় তা দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ওটির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আবার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। যা তাদেরমত গরীব মানুষের পক্ষে করানো খুবই কষ্ট কর।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজিব বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকটের কারণে একজন চিকিৎসককে ইনডোর ও অউটডোরে সব ধরনের রোগী দেখতে হয়। খুবই কষ্ট করে রোগীদের সেবা দিতে হয়। আমরা সেবার কোন ত্রুটি করছি না, সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। জুনিয়র কনসালটেন্ট না থাকায় জটিল রোগের চিকিৎসা আমরা এখানে দিতে পারিনা। জনবল সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রয়েছে আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২০১৯ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।