বরিশাল সিটিতে বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ, আর অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে না!

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৪৪, জুলাই ০৪ ২০২৬ মিনিট

প্রায় দেড় যুগ পর বরিশাল নগরীতে আবারও সিটি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্বল্প খরচে গণপরিবহনে চলাচলের সুযোগ পাবেন নগরবাসী, কমবে ভোগান্তি। একই সঙ্গে থ্রি-হুইলারে (মাহিন্দ্রা) অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে মনে করা হচ্ছে। ১৭ বছর আগেই নগরীতে এই ধরনের বাস সার্ভিস চালু ছিলো। বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর যানজট, গণপরিবহনের সংকট এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি বাস সার্ভিস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে লঞ্চঘাট এবং লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নগরীতে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করা হয়। তবে বিভিন্ন কারণে দুই বছর পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের উদ্যোগে আবার সিটি বাস সার্ভিস চালু হলেও ২০১৩ সালে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নগরবাসী মূলত থ্রিহুইলারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণ দেখিয়ে গ্যাস ও ব্যাটারিচালিত থ্রিহুইলারের চালকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে নাগরিকদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন আগের ভাড়ার তালিকা কার্যকর রাখার নির্দেশনা দিয়েছে, তবু অনেক চালক তা মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরীর প্যারারা রোড এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলে প্রতিদিনই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সিটি বাস চালু হলে সাধারণ মানুষ কম খরচে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে থ্রিহুইলার চালকদের অনিয়মও অনেকটা কমবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী সাংবাদিকদের জানান, সিটি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যা শিগগিরই প্রশাসকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তার অনুমোদন পেলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে প্রাথমিকভাবে শহরের কয়েকটি রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে চাহিদা অনুযায়ী রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।