টিউশনি না পেয়ে শরবতের দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী ববি শিক্ষার্থী আবির

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:৩২, জুন ২৮ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : তীব্র গরমে ক্লান্ত মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছেন লেবুর শরবত। আর সেই শরবত বিক্রি করেই মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আবির হোসেন লিটন। নিজের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলচত্বরে ‘সতেজ’ নামে ছোট্ট একটি শরবতের স্টল বসান লিটন। লেবু, চিনি ও বিশুদ্ধ পানির মিশ্রণে তৈরি এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন শত শত পথচারীর তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি আয় করেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। মাস শেষে সেই আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায়।

চুয়াডাঙ্গার এক কৃষক পরিবারের সন্তান লিটন বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেজ। একসময় বাবা কষ্ট করে তার পড়াশোনার খরচ চালালেও একটি দুর্ঘটনায় একটি হাত হারানোর পর সংসারের ভার এসে পড়ে লিটনের কাঁধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর জীবিকার জন্য টিউশনির পেছনে ছুটেছেন, রেস্টুরেন্টেও কাজ করেছেন। কিন্তু সেই আয় দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচই ঠিকমতো মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। তখনই মাথায় আসে ভিন্ন কিছু করার ভাবনা।

সহপাঠীদের সহযোগিতা এবং নিজের জমানো পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি করে তিন বছর আগে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুরু করেন শরবতের ব্যবসা। শুরুটা সহজ ছিল না। উচ্ছেদ অভিযানের কারণে কয়েকবার স্টলের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মুখেও হাল ছাড়েননি তিনি। ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে আজ সেই ছোট উদ্যোগই তার আয়ের প্রধান উৎস।

লিটনের স্বপ্ন, ভবিষ্যতে এই ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া। শুধু নিজের জন্য নয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও তার লক্ষ্য।

লিটন বলেন, ‘কোনো ব্যবসাই ছোট নয়। চাকরির অপেক্ষায় বসে না থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা উচিত। এতে নিজের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়ে, তেমনি নিজের উপার্জনে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারকেও সহযোগিতা করা যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হয়েও ফুটপাতে দাঁড়িয়ে শরবত বিক্রি করার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, কাজের কোনো ছোট-বড় নেই। বরং লিটনের এই উদ্যোগ বেকারত্বের হতাশায় থাকা তরুণদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও লিটনের উদ্যোগকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির চিন্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসা উচিত। লিটন দেখিয়ে দিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে ছোট একটি উদ্যোগও একদিন বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।