বরিশালে ধরা ছোঁয়ার বাইরে মাদক ব্যবসায়ী খাইরুল

দেশ জনপদ ডেস্ক | ২২:০৫, জুন ২৩ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীতে সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ খাইরুল গাজী। তিনি নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম টিয়াখালী এলাকার মোঃ নাসির গাজীর ছেলে।

সম্প্রতি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদ বরিশালকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিলে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে গত এক মাসে মাদক ক্রেতা-বিক্রেতাসহ বিভিন্ন অপরাধে এক হাজারের বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মোঃ খাইরুল গাজীর ডেরায় হানা দিয়ে তার ছোট ভাই মাইনুল গাজী ও তার সহযোগী মোঃ শামীম গাজীকে গাঁজাসহ আটক করলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি। সেই ঘটনায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক অহিদুল ইসলাম অহিদ বাদী হয়ে খাইরুলকে পলাতক দেখিয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। কিন্তু মাদক কারবারী মোঃ খাইরুল গাজী ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকেও দেদারছে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে দীর্ঘদিন খাইরুল চুরি-ছিনতাই, হিন্দু বাড়িতে হামলাসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। এক সময় তিনি এলাকায় অটোচালক চোরা খাইরুল নামে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান তিনি বিশাল এক মাদক সিন্ডিকেট তৈরী করে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি ভাই তার মাইনুল গাজী, তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে নিয়ে সংঘবদ্ধ একটি মাদক সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে পারেনা। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার বাসায় মাদক রেখে তাকে ফাঁসিয়ে দেয় খাইরুল। এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকাবাসীকে আতঙ্কে রেখে খাইরুল তার মাদক সম্রাজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তার যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসেনর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন জানান- খাইরুলের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু খাইরুল খুবই চতুর। তাকে গ্রেফতার করতে আসলে তার স্ত্রীকে সামনে পাঠিয়ে পিছন থেকে পালিয়ে যায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী মোঃ খাইরুল গাজী খুবই সুচতুর ব্যক্তি। তিনি কৌশলে মাদক কারবারি চালিয়ে যাচ্ছেন। যত বারই অভিযান করা হয় তিনি পালিয়ে যান। তার স্ত্রী তার এ সব কাজে সহযোগীতা করেন।

পুলিশ কমিশনার মোঃ আশিক সাঈদ বলেন, এরই মধ্যে অনেক বড় বড় অপরাধীকে আটক করা হয়েছে। বরিশাল মাদকমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলেই অভিযান শুরুর এক মাসে এক হাজারের বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।